ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:

কিছু মানুষ শত বছর বাঁচে যেভাবে 

সাতরং ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ২১ এপ্রিল ২০২৬  

ছবি: অন্তর্জাল

ছবি: অন্তর্জাল


মানুষের গড় আয়ু ৭২ থেকে ৭৪ বছর। কিন্তু মাঝেমধ্যে অনেকে ১০০ বছরও বাঁচে। এই রকম বহু মানুষ আছে যারা ১০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে ছিল বা আছে।

এখন প্রশ্ন হলো, ঐ মানুষগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের পার্থক্য কোথায়? কেন কিছু মানুষ স্বাভাবিক গড় আয়ুর তুলনায় বেশি দিন বাঁচে? সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের শরীরের মেকানিজম কি আলাদা?

তো চলুন, এই রহস্যের খোলাসা করা যাক। আর এ বিষয়টি গণমাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, রিয়াদ বিন মোহাম্মদ- শিক্ষার্থী, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ, হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্স অনুষদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

রিয়াদ বলেন, শতবর্ষী মানুষের শরীরে বার্ধক্য যেন একটু অন্যভাবে কাজ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে তাদের শরীরের ভেতরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক বৈশিষ্ট্যও আশ্চর্যজনকভাবে তরুণ অবস্থায়ই থেকে যায়। সুইজারল্যান্ডে মাত্র ০.০২ শতাংশ মানুষ ১০০ বছর বয়সে পৌঁছাতে পারেন। তাহলে এই মানুষগুলোকে আলাদা করে কী? তাদের শরীরেই কি লুকিয়ে আছে বার্ধক্যের প্রভাব ধীর করার রহস্য?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাউসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিভিন্ন বয়সের মানুষের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেন। তাঁদের গবেষণা দেখায়, বার্ধক্য সব সময় একরৈখিক নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি ভিন্নভাবে অগ্রসর হতে পারে। ‘সুইস ১০০’ নামে একটি প্রকল্পের অধীনে গবেষকেরা তিনটি বয়সের গ্রুপ করেন। তারপর শতবর্ষী, আশি বছরের বেশি বয়সী এবং ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের রক্ত পরীক্ষা করেন।

এতে দেখা যায়, শতবর্ষীদের শরীরে এমন ৩৭টি প্রোটিন রয়েছে, যেগুলো অনেকটা তরুণদের শরীরে পাওয়া প্রোটিনের মতোই। বিশেষ করে, এসব প্রোটিন কম অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা তাদের শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই প্রোটিনগুলোর কিছু কিছু আমাদের শরীরের এক্সট্রাসেলুলার ম্যাট্রিক্স অর্থাৎ কোষের মাঝখানে থাকা সিমেন্টের মতো কাঠামোগুলোকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আবার কিছু প্রোটিন টিউমার তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। কিছু চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

এই গবেষণায় মোট ৩৯ জন শতবর্ষী (বয়স ১০০-১০৫ বছর, যাদের মধ্যে ৮৫ ভাগ নারী), ৫৯ জন ৮০ বছরের বেশি বয়সী এবং ৪০ জন তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক (বয়স ৩০-৬০ বছর) অংশ নেন।

গবেষকদের মতে, ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তর্ভুক্ত করার ফলে জীবনভর রক্তের বিভিন্ন সূচক কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা আরো সূক্ষ্মভাবে বোঝা যায়। পাশাপাশি এটি স্বাভাবিক বার্ধক্য এবং শতবর্ষীদের ব্যতিক্রমী বার্ধক্যের পার্থক্য স্পষ্ট করে।

গবেষকেরা রক্তের সিরামে মোট ৭২৪টি প্রোটিন পরিমাপ করেন। এর মধ্যে ৩৫৮টি প্রোটিন বিভিন্ন প্রদাহের সঙ্গে এবং ৩৬৬টি প্রোটিন হৃদ্‌রোগসংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকেরা বলেন, এই ৭২৪টি প্রোটিনের মধ্যে ৩৭টি প্রোটিন একেবারেই চমকপ্রদ ফল দেখিয়েছে। শতবর্ষীদের ক্ষেত্রে এই ৩৭টি প্রোটিনের ধরন ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় তরুণদের সঙ্গে বেশি মেলে। এর পরিমাণ মোট প্রোটিনের প্রায় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, শতবর্ষীরা পুরোপুরি বার্ধক্য এড়িয়ে যেতে পারেন না, তবে তাদের শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া অনেকটাই ধীরগতিতে চলে, যা তাদের দীর্ঘায়ুর একটি বড় কারণ।

এই ৩৭টি প্রোটিনের মধ্যে আবার ৫টি প্রোটিন সরাসরি অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দ্বারা চালিত হয় এবং বার্ধক্যকে দ্রুততর করতে পারে। ফ্রি র‍্যাডিক্যাল সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সময় তৈরি হয়। এ ছাড়া, ত্রুটিপূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়াও অতিরিক্ত ক্ষতিকর অণু তৈরি করতে পারে, যা এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, শতবর্ষীরা কি তাহলে কম ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি করে, নাকি তাদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি শক্তিশালী? আসলে শতবর্ষীদের শরীরে সাধারণ বয়স্কদের তুলনায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোটিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। প্রথমে ব্যাপারটা একটু অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এর মানে হলো, তাদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসই যেহেতু কম, তাই সেটা মোকাবিলা করার জন্য অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোটিন তৈরি করার প্রয়োজনও কম পড়ে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, এক্সট্রাসেলুলার ম্যাট্রিক্স বা কোষগুলোর মাঝে থাকা সিমেন্টের মতো গঠনগত ভিত্তি বজায় রাখতে যেসব প্রোটিন কাজ করে, সেগুলো শতবর্ষীদের শরীরে তুলনামূলকভাবে তরুণদের মতোই থাকে। এর পাশাপাশি কিছু প্রোটিন ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।

সূত্র: সাইটেকডেইলি ডটকম

নিউজওয়ান২৪.কম/আরএডব্লিউ